>

মাওলানা মোয়াজ্জম হোসেন (রহঃ) ১৮৫০ ইংরেজীতে অছিম উদ্দিন ফরাজী বাড়ি (বর্তমান নামঃ মৌলভী মোয়াজ্জম হোসেন (রহঃ) বাড়ি), গ্রামঃ নিজকুঞ্জরা, উপজেলাঃ ছাগলনাইয়া, জেলাঃ ফেনীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল অছিম উদ্দিন ফরাজী, মাতা- ওমদা বিবি। তাঁরা ছিলেন 3 ভাই, ১ বোন। বড় ভাই সুফি আশ্রাফ আলী (রহঃ), ছোট ভাই ঈমান আলী ফরাজী এবং বোন জয়তুন বিবি।শৈশবকালঃ তিনি মাতা-পিতার স্নেহ ও তত্ত্বাবধানে নিজ জন্মভূমিতেই শৈশবকাল অতিবাহিত করেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রদর্শন করেন। ছাত্র জীবনঃ তাঁর ছাত্রজীবন দুই স্তরে বিভক্ত ছিল। প্রথম স্তরে তিনি প্রাথমিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিজ পিতা ও বড় ভাইয়ের নিকট হতে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উচ্চতর ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে তিনি ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরে অবস্থিত বিখ্যাত দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন।কর্মজীবন ও দ্বীনি খেদমতঃ শিক্ষা জীবন শেষে তিনি কিছু সময় ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি ইসলামী জীবনাদর্শের একনিষ্ঠ অনুসারী এবং খাঁটি সুফি মতাদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন অঞ্চলের আওলিয়া কেরাম ও বুজুর্গ ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। তিনি ইসলাম প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং সমাজ সংস্কারমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। পারিবারিক জীবনঃ তিনি দুইবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। প্রথম স্ত্রী আয়েশা খাতুন ও দ্বিতীয় স্ত্রী হাজেরা খাতুন।সন্তান সন্ততিঃ তাঁর কোনো সন্তান-সন্ততি ছিল না। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠাঃ তিনি দ্বীনের প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি ১৯১৯ ইংরেজি সালে নিজ গ্রামে “নিজকুঞ্জরা সিনিয়র মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এর নাম “নিজকুঞ্জরা ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা”। তিনি এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম অধ্যক্ষ হিসেবে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন এবং দীর্ঘদিন দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারে অবদান রাখেন।মসজিদ প্রতিষ্ঠাঃ আল্লাহর ইবাদত কায়েম, দ্বীনি শিক্ষা বিস্তার এবং মুসলিম সমাজের ঐক্য সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ১৯৩৯ ইংরেজি সালে নিজ বাড়ির সামনে তাঁর নামানুসারে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি জীবদ্দশায় এ মসজিদে নিয়মিত ইবাদত করতেন।ওয়াকফ ও সম্পদ দানঃ তিনি নিজ প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার জন্য নিজের ৩৬ শতক জমি এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী আয়েশা খাতুনের ২০ শতক জমি ওয়াকফ করে দেন এবং মসজিদের নামে ৫৬ শতক জমি দান করেছেন। এছাড়াও তিনি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও মসজিদের জন্য তাঁর স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদ ওয়াকফ করে দেন।কৃতিত্ব ও অবদানঃ একটি মাদ্রাসা ও একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা। শিরকের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ। মাজারকেন্দ্রিক শিরক চর্চা দমন। তৎকালীন সময়ে শিরক বিষয়ে মুনাজিরায় অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা। নিরীহ পশু খেলা বন্ধে উদ্যোগ গ্রহণ। দুর্ভিক্ষ বা খরার সময় এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহর রহমতে বৃষ্টি বর্ষিত হওয়া। মৃত্যুঃ ১লা এপ্রিল ১৯৪২ ইংরেজি (১৬ই চৈত্র ১৩৪১ বাংলা সন ) তারিখে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত মসজিদের পাশে দাফন করা হয়।(তথ্য সংগ্রহ- মাওলানা সরওয়ার হোসেন, আবদুর রহমান দুলাল, শাহজাহান মিয়া, মুজিবুল হক এবং মিছবাহ বিন মোশারফ)
তিনি মিরশ্বরাই উপজেলার পশ্চিম জোয়ার গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি নিজকুঞ্জরা মাদ্রাসা থেকে অবসর গ্রহণ কর কিশোরগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। বোখারী শরীফ পাঠদানরত অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।
মাওলানা আবুল খায়ের ভূঁইয়া ০৯ জুন ১৯৩৪ সালে মিরশ^রাই উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের পাতাকোট গ্রামের আফতাব উদ্দিন ভূইঁয়া বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হয় সুফিয়া নুরীয়া গণিয়াতুল উলুম ফাযিল মাদ্রাসায়। এরপর আসেন নিজকুঞ্জরা ফাযিল মাদ্রাসায়। এখান থেকে দাখিল পাশ করার পর তিনি আলিম শ্রেণিতে ভর্তি হন মোকরা দারুস্সুন্নাত নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসায়। সেখান থেকে আলিম পাশ করার পর ফাযিল শ্রেণিতে ভর্তি হন ফেনী আলিয়া মাদ্রাসায়। সেখানে হোস্টেলে থেকে ফাযিল ও কামিলে পড়া লিখা সমাপ্ত করেন। এরপর ১৯৬৭ সালে ডিএমএস পাশ করে চট্টগ্রাম শহরের হালিশহরে হোমিও চিকিৎসায় মনোনিবেশ করেন এবং সে সাথে হালিশহরের একটি মসজিদে খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁর চেম্বার পুড়িয়ে দেয়া হলে হলে তিনি নিজকুঞ্জরায় ফিরে আসেন। অতঃপর নিজকুঞ্জরা মাদ্রাসার প্রাক্তন প্রিন্সিপাল মাওলানা ছদিকুর রহমান এবং মাওলানা আবুল বশর এর অনুরোধে নিজকুঞ্জরা মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। মাওলানা ছদিকুর রহমানের অবসরে যাওয়ার পর ----- সালে তিনি মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালে শিক্ষকতা পেশা সমাপ্ত করে অবসরে যান এবং হোমিও ও আয়ুর্বেদী চিকিৎসায় মনোনিবেশ করেণ। আরবী ব্যাকরণ ও ফরায়েজ শাস্ত্রে তিনি পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। ০৩ মে, ২০২১ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন।